MTB Logo

সরাসরি ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিযুক্ত এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাকে বলা হয় এজেন্ট ব্যাংকিং। এজেন্ট বা রিটেইলার যারা সাধারণত নিজস্ব আউটলেটগুলোর মালিক হয়ে থাকে তারা ক্রমেই নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ণ অল্টারনেটিভ ডিস্ট্রিবিউশন (বিকল্প বিতরণ) চ্যানেল হিসাবে প্রমাণ করেছে, বিশেষ করে ভৌগলিকভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে।

এজেন্ট ব্যাংকিং:

  • ব্যাংক এবং ব্যাংকের আওতার বাইরে থাকা মানুষের মাঝে সেতুবন্ধনের কাজ করে
  • গ্রামীণ মানুষের মাঝে ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য করে
  • সাশ্রয়ী ব্যাংকিং সেবার ব্যবস্থা করে
  • ব্যাংকের সংস্থাপন এবং পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে আনে

এজেন্ট ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা যে কারণে:

বছরের পর বছর যেসব উন্নয়নশীল দেশে আর্থিক সেবা দেওয়া কঠিন, সেক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং বেশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরু, মালয়েশিয়া, ও কেনিয়ায় ইতোমধ্যেই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের যুগান্তকারী সূচনা হয়েছে। ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, কর প্রদান এসব ক্ষেত্রে লেনদেন সহজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি দেশেই এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থাটি সাফল্যের প্রমাণ রেখেছে। সংগৃহীত তথ্য থেকে দেখা গেছে, দূর্গম এলাকায় এ ধরণের মোট লেনদেনের প্রায় ৭০% এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

৬৫০ টিরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মাইক্রোফাইন্যান্স ইন্সটিটিউশন (এমএফআই) বা ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় চার কোটি মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও এমএফআই গুলো দারিদ্র্যপীড়িত বিভিন্ন অঞ্চল টার্গেট করে সেখানকার প্রান্তিক মানুষগুলিকে ক্ষুদ্রতর আর্থিক পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে দুর্দান্ত কাজ করে চলছে যদিও তাদেরও কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

একটি ব্যাংকের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ একটি নতুন শাখা স্থাপন করা সব সময় আর্থিকভাবে সম্ভব নাও হতে পারে, এজন্য এজেন্ট আউটলেটগুলো ব্যাংকের প্রতিফলক শাখা (মিরর ব্রাঞ্চ) হিসাবে কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে , এজেন্ট আউটলেট থেকে মানুষকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা এবং ব্যাংকের নিকটতম শাখা থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট গ্রহণ করা দুটোই এজেন্ট করতে পারে।

উপরোক্ত কারণেই, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। আমাদের প্রাণবন্ত ব্যাংকিং সেক্টরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশাবলী সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের কাছে বেশ কিছু আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে পারে। আর আর্থিক কর্মকান্ডে প্রান্তিক মানুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নেও এজেন্ট ব্যাংকিং বিস্ময়কর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

  • ১৫০

    টোটাল এমটিবি এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার

  • ৩৯

    জেলা

  • ১১২

    গ্রামীণ এলাকা

  • ৩৮

    নগর অঞ্চল

আমাদের সাবস্ক্রিপশনে
যোগদান করুন